সন্দ্বীপে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে একাধিক সাংবাদিক অপমান, লাঞ্ছনা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইজন স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর সন্দ্বীপ প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান হামলার শিকার হন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেনের সন্দ্বীপ সফরের সময় তিনি একটি প্রশ্ন করলে, মেয়রের সঙ্গে থাকা একজন তাকে হেনস্থা করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সেখান থেকে বের করে দেওয়ার পরে তাকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান শারীরিকভাবে হুমকি-দামকি শুরু করে। এক পর্যায়ে নিঝুম খানের কর্মী হরিশপুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আপছার উদ্দিন তার গায়ে হাত তুলে তাকে ধাক্কা মেরে চলে যায়।
এই বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. আবু তাহেরকে জানালে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর বলেন, বিষয়টি শুনেছি, আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, ২৬ আগস্ট, হামলার শিকার হন বিজয় টিভির সন্দ্বীপ প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন মনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত কিংবা আটক করা হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগেও সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ‘দলীয় দালাল’ বলে অপমান করা, এমনকি থানায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় হয়রানির মুখে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কয়েকজন সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, “সাংবাদিকরা কারও কেনা গোলাম নয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক, কিন্তু কাউকে মারধর করা, হুমকি দেওয়া কিংবা অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।”
তারা আরও বলেন, “সব সরকারের সময় কিছু পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি থাকেই, যারা সাংবাদিকতার আড়ালে কাজ করেন। তাদের দায় সারা সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।” সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন মনে করছে, এভাবে চলতে থাকলে সন্দ্বীপে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা অবিলম্বে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।